শীত বাড়লে বাড়ে হৃদরোগের ঝুঁকি—জানুন ১০টি প্রাণঘাতী হার্ট সমস্যা
by Digi-Admin
শীত বাড়লে বাড়ে হৃদরোগের ঝুঁকি—জানুন ১০টি প্রাণঘাতী হার্ট সমস্যা
শীত পড়লেই অনেকেই বুকে ব্যথা, শ্বাসকষ্ট বা উচ্চ রক্তচাপের সমস্যায় বেশি ভোগেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, তাপমাত্রা কমে গেলে শরীরের রক্তনালী সংকুচিত হয়, রক্তচাপ বেড়ে যায় এবং হার্টকে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি চাপ নিতে হয়। ফলাফলে হৃদরোগের ঝুঁকি গরমকালের তুলনায় শীতকালে প্রায় দ্বিগুণ হয়ে যায়।
তাই নিজের হৃদ্স্বাস্থ্যের যত্ন নেওয়া এবং শীতকালীন হার্ট সমস্যাগুলি সম্পর্কে সচেতন হওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এখানে জানুন—শীতকালে যে ১০টি গুরুতর হার্ট ডিজিজ বা কার্ডিয়াক কন্ডিশন দ্রুত বেড়ে যায় এবং যা অনেকক্ষেত্রে প্রাণঘাতীও হতে পারে।
১. হার্ট অ্যাটাক (Heart Attack)
ঠান্ডা তাপমাত্রার কারণে রক্তনালী সংকুচিত হলে হৃদপিণ্ডে রক্তপ্রবাহ কমে যায়। প্লাক জমে থাকা ধমনিতে রক্ত জমাট বাঁধার ঝুঁকিও বাড়ে। এ কারণেই শীতের সকাল-রাতে হার্ট অ্যাটাক সবচেয়ে বেশি দেখা যায়।
২. কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট (Cardiac Arrest)
হঠাৎ হৃদস্পন্দন থেমে যাওয়া বা বিঘ্নিত হওয়াকে কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট বলা হয়। ঠান্ডায় শরীর অতিরিক্ত চাপের মুখে পড়লে হার্টের ইলেকট্রিক্যাল সিস্টেম ব্যাহত হয়ে এই অবস্থা দেখা দিতে পারে। দ্রুত চিকিৎসা না পেলে কয়েক মিনিটেই মৃত্যু ঘটতে পারে।
৩. হাই ব্লাড প্রেশার (Hypertension)
তাপমাত্রা কমার সঙ্গে সঙ্গে রক্তচাপ বেড়ে যায়। শীতকালে BP নিয়ন্ত্রণে না থাকলে হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক ও হার্ট ফেইলিওরের ঝুঁকি বহুগুণে বেড়ে যায়।
৪. কনজেস্টিভ হার্ট ফেইলিওর (CHF)
হার্ট দুর্বল হয়ে গেলে শরীরে পর্যাপ্ত রক্ত পাম্প করতে পারে না। শীতে শরীরে পানি জমে যাওয়া ও শ্বাসকষ্ট বেড়ে যাওয়ার কারণে CHF রোগীদের অবস্থা দ্রুত খারাপ হতে পারে।
৫. অ্যারিদমিয়া বা অনিয়মিত হার্টবিট
ঠান্ডার প্রভাবে sympathetic nervous system অতিরিক্ত সক্রিয় হয়ে পড়ে, ফলে হৃদস্পন্দনের ছন্দ বিঘ্নিত হয়। মাথা ঘোরা, বুক ধড়ফড় বা হঠাৎ অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে।
৬. এনজাইনা পেক্টোরিস (Chest Pain)
হঠাৎ ঠান্ডা বাতাসে বেরোলে বুকের ধমনিতে স্প্যাজম তৈরি হয়। এতে হৃদপিণ্ডে অক্সিজেন কম পৌঁছে বুকে চাপ বা ব্যথা অনুভূত হয়, যা ভবিষ্যৎ হার্ট অ্যাটাকের সতর্ক সংকেত।
৭. স্ট্রোক (Stroke)
উচ্চ রক্তচাপ ও রক্ত জমাট বাঁধার প্রবণতার কারণে শীতকালে স্ট্রোকের ঝুঁকি বেড়ে যায়। কথা জড়িয়ে যাওয়া, শরীরের একপাশ অবশ হয়ে যাওয়া বা হঠাৎ পড়ে যাওয়া এর লক্ষণ।
৮. ভ্যালভুলার হার্ট ডিজিজ
শীতকালে সংক্রমণ ও প্রদাহ বেড়ে যাওয়ায় হার্টের ভাল্ভ সংক্রান্ত সমস্যা বাড়তে পারে। বিশেষ করে Rheumatic heart disease রোগীদের জন্য এটি অত্যন্ত বিপজ্জনক।
৯. মায়োকার্ডাইটিস (Myocarditis)
শীতকালে ভাইরাল সংক্রমণ বেশি হয়। এর ফলে হার্টের পেশীতে প্রদাহ সৃষ্টি হয়ে মায়োকার্ডাইটিস হতে পারে, যা তরুণদের ক্ষেত্রেও প্রাণঘাতী রূপ নিতে পারে।
১০. পালমোনারি এম্বোলিজম (PE)
দীর্ঘ সময় নড়াচড়া কম থাকলে বা রক্ত জমাট বাঁধলে তা ফুসফুসে গিয়ে আটকে যেতে পারে। শীতকালে শরীরচর্চা কমে যাওয়ায় এই ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়।
কারা বেশি ঝুঁকিতে?
- ৪০ বছরের বেশি বয়সী ব্যক্তি
- ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপের রোগী
- ধূমপায়ী
- স্থূলদেহী (Obese)
- অতিরিক্ত স্ট্রেস ও কম ঘুম যাদের
- আগে হার্টের সমস্যা ছিল এমন রোগী
শীতে হার্ট বাঁচাতে কী করবেন?
- গরম কাপড় ও মাফলার ব্যবহার করুন
- প্রতিদিন হালকা ব্যায়াম বা হাঁটুন
- পর্যাপ্ত জল পান করুন
- তেল-চর্বি কমিয়ে শাকসবজি ও ওটস খান
- ধূমপান ও অতিরিক্ত মদ্যপান এড়িয়ে চলুন
- বুকে ব্যথা বা শ্বাসকষ্ট হলে দেরি না করে ডাক্তারের কাছে যান
উপসংহার
শীতের মনোরম পরিবেশ যেমন আনন্দদায়ক, তেমনই হৃদরোগীদের জন্য হতে পারে নীরব বিপদের কারণ। তাই শীত এলে সচেতনতা, সঠিক খাদ্যাভ্যাস এবং নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা—এই তিনটি বিষয়ই হতে পারে আপনার হৃদয় রক্ষার সবচেয়ে বড় অস্ত্র।