শীতকালে কেন বাড়ে জয়েন্টে ব্যথা? জানুন কারণ ও সতর্কতামূলক পদক্ষেপ
by Digi-Admin
শীতকালে কেন বাড়ে জয়েন্টে ব্যথা? জানুন কারণ ও সতর্কতামূলক পদক্ষেপ
শীত পড়লেই অনেক মানুষের পুরনো ব্যথা যেন হঠাৎ করেই মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে। বিশেষ করে হাঁটু, কোমর, কাঁধ, কবজি বা আঙুলের জয়েন্টগুলোতে ব্যথা বাড়তে দেখা যায়। শুধুমাত্র বয়স্ক মানুষই নয়—আরথ্রাইটিস রোগী, খেলাধুলা করেন এমন ব্যক্তি কিংবা অতীতের কোনো চোটপ্রাপ্ত মানুষও এই সমস্যায় বেশি ভোগেন। কেন এমন হয়? চিকিৎসকদের মতে, শীতের তাপমাত্রা কমে গেলে আমাদের শরীর ও জয়েন্টের ভেতরের কিছু পরিবর্তন ব্যথাকে তীব্র করে তোলে।
চলুন দেখে নেওয়া যাক শীতকালে জয়েন্ট ব্যথা বাড়ার মূল কারণগুলি—
১. ঠান্ডায় রক্ত সঞ্চালন কমে যাওয়া
তাপমাত্রা কমে গেলে শরীর প্রথমে গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলিকে (যেমন—হৃদপিণ্ড, মস্তিষ্ক) উষ্ণ রাখতে কাজ শুরু করে। ফলে হাতে-পায়ের দিকে রক্ত সঞ্চালন তুলনামূলক কমে যায়। জয়েন্টের চারপাশের পেশি ও টিস্যু শক্ত হয়ে পড়ে, ফলে ব্যথা বাড়ে।
২. সাইনোভিয়াল ফ্লুইডের ঘনত্ব বেড়ে যাওয়া
জয়েন্টে থাকে একটি লুব্রিকেটিং ফ্লুইড, যার নাম সাইনোভিয়াল ফ্লুইড। শীতে এটি ঘন হয়ে যেতে পারে, ফলে হাড়ের সংযোগস্থলগুলোতে ঘর্ষণ বাড়ে। এতে চলাফেরার সময় ব্যথা তীব্র হয়।
৩. বায়ুচাপ বা বারোমেট্রিক প্রেশারের পরিবর্তন
শীতের সময় বায়ুচাপ কমে যায়। আরথ্রাইটিস রোগীদের ক্ষেত্রে এই চাপের পরিবর্তন হাড়ের ফোলাভাব বাড়ায়। অনেকেই তাই আবহাওয়া বদলানোর আগেই ব্যথা বেড়ে যাওয়া টের পান।
৪. শীতের কারণে কমে যাওয়া ফিজিক্যাল অ্যাক্টিভিটি
শীতকালে অনেকেই বাড়ি থেকে বেরোতে চান না, হাঁটাহাঁটি ও ব্যায়াম কমিয়ে দেন। ফলে পেশি শক্ত হয়ে যায়, নমনীয়তা কমে এবং জয়েন্টে স্টিফনেস বেড়ে যায়।
৫. ভিটামিন ডি-এর ঘাটতি
শীতে সূর্যের আলো কম পাওয়া যায়। ভিটামিন ডি কমে গেলে ক্যালসিয়াম শোষণ বাধাপ্রাপ্ত হয় এবং হাড় দুর্বল হতে থাকে। এই ঘাটতিও জয়েন্ট ব্যথা বাড়িয়ে তুলতে পারে।
৬. ঠান্ডায় পেশির সংকোচন
শীতে শরীর স্বাভাবিক ভাবেই পেশি ও টেন্ডনকে সংকুচিত করে তাপমাত্রা ধরে রাখতে চায়। এই বাড়তি চাপ ব্যথা, টান এবং স্টিফনেস বাড়ায়।
কারা বেশি ঝুঁকিতে?
- আরথ্রাইটিস ও রিউমাটয়েড আরথ্রাইটিস রোগী
- বয়স্ক মানুষ
- যাদের অতীতে হাড়ভাঙা বা জয়েন্টে ইনজুরি হয়েছে
- স্থূলতা বা অতিরিক্ত ওজন
- কম শারীরিক পরিশ্রমকারী মানুষ
- ডায়াবেটিস বা থাইরয়েড রোগী
শীতকালে জয়েন্ট ব্যথা কমানোর উপায়
১. শরীর গরম রাখুন
হাঁটু, কোমর ও পায়ের জয়েন্টগুলো উষ্ণ রাখলে ব্যথা অনেকটাই কমে।
২. নিয়মিত ব্যায়াম করুন
হালকা স্ট্রেচিং, যোগব্যায়াম ও হাঁটাহাঁটি জয়েন্টকে সক্রিয় রাখে।
৩. উষ্ণ সেঁক নিন
হট প্যাড বা উষ্ণ জলে সেঁক দিলে পেশি রিল্যাক্স হয়।
৪. পর্যাপ্ত ভিটামিন ডি গ্রহণ
রোদে থাকা ও ভিটামিন ডি সমৃদ্ধ খাবার গ্রহণ উপকারী।
৫. ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখুন
ওজন বেশি হলে হাঁটুর উপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে।
৬. সুষম খাবার খান
হলুদ, আদা, রসুন, মাছ ও বাদাম প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে।
কখন ডাক্তার দেখাবেন?
- ব্যথা কয়েকদিন ধরে কমছে না
- জয়েন্টে ফোলা দেখা যাচ্ছে
- হঠাৎ ব্যথা বেড়ে যাচ্ছে
- হাঁটতে বা নড়াচড়া করতে অসুবিধা হচ্ছে
উপসংহার
শীতের ঠান্ডা জয়েন্ট ব্যথাকে বাড়িয়ে দেয়—এটা নতুন কথা নয়। তবে সঠিক যত্ন, নিয়মিত ব্যায়াম এবং প্রয়োজনমতো চিকিৎসার সাহায্যে এই ব্যথাকে অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়। আবহাওয়া বদলালেও সচেতনতা থাকলে সুস্থ ও সক্রিয় থাকা সম্ভব। শীত এলে ব্যথা বাড়তেই হবে—এই ভুল ধারণা বদলানোর সময় এখনই।