কোলেস্টেরল বাড়লে হার্ট অ্যাটাকের সম্ভাবনা কতটা? জানুন ঝুঁকি, কারণ ও প্রতিরোধের উপায়
আজকের দিনে হার্ট অ্যাটাক একটি বড় জনস্বাস্থ্য সমস্যায় পরিণত হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এর অন্যতম প্রধান কারণ হলো রক্তে অতিরিক্ত কোলেস্টেরল। অনেকেই জানেন যে কোলেস্টেরল “খারাপ”, কিন্তু ঠিক কতটা বাড়লে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি তৈরি হয়—সে বিষয়ে স্পষ্ট ধারণা সবার নেই। অথচ সময়মতো সচেতন না হলে এই সমস্যা প্রাণঘাতী রূপ নিতে পারে।
তাই কোলেস্টেরল বাড়লে হার্ট অ্যাটাকের সম্ভাবনা কতটা, কেন বাড়ে এবং কীভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়—এসব বিষয় জানা অত্যন্ত জরুরি।
কোলেস্টেরল আসলে কী?
কোলেস্টেরল একটি চর্বিজাতীয় উপাদান, যা শরীরের কোষ গঠনে ও হরমোন তৈরিতে প্রয়োজন। তবে সমস্যা শুরু হয় যখন রক্তে এর মাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেড়ে যায়।
কোলেস্টেরল মূলত দুই ধরনের—
LDL (খারাপ কোলেস্টেরল)
HDL (ভালো কোলেস্টেরল)
LDL বেশি হলে ধমনীর ভিতরে চর্বি জমতে থাকে, আর HDL সেই জমা চর্বি পরিষ্কার করতে সাহায্য করে।
কোলেস্টেরল বাড়লে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি কেন বাড়ে?
রক্তে খারাপ কোলেস্টেরল (LDL) বেড়ে গেলে তা ধমনীর দেওয়ালে জমে প্লাক তৈরি করে। এই অবস্থাকে বলা হয় অ্যাথেরোস্ক্লেরোসিস।
এই প্লাকের কারণে—
ধমনী সরু হয়ে যায়
হৃদপিণ্ডে রক্ত চলাচল কমে যায়
হঠাৎ ধমনী পুরোপুরি ব্লক হয়ে গেলে হার্ট অ্যাটাক ঘটে
বিশেষজ্ঞদের মতে, LDL কোলেস্টেরল যত বেশি, হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকিও তত বেশি।
ঠিক কতটা কোলেস্টেরল বিপজ্জনক?
চিকিৎসকদের সাধারণ নির্দেশিকা অনুযায়ী—
মোট কোলেস্টেরল:
২০০ mg/dL-এর নিচে — নিরাপদ
২৪০ mg/dL-এর বেশি — উচ্চ ঝুঁকি
LDL কোলেস্টেরল:
১০০ mg/dL-এর নিচে — আদর্শ
১৬০ mg/dL-এর বেশি — হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বেশি
যাদের ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ বা পারিবারিক হার্ট রোগের ইতিহাস আছে, তাদের ক্ষেত্রে ঝুঁকি আরও বেশি।
কারা বেশি ঝুঁকিতে?
কোলেস্টেরল বেড়ে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি যাদের বেশি—
- • ডায়াবেটিস রোগী
- • উচ্চ রক্তচাপে ভোগা ব্যক্তি
- • ধূমপায়ী
- • স্থূলতায় আক্রান্ত মানুষ
- • শারীরিক পরিশ্রম না করা ব্যক্তি
- • যাদের পরিবারে হার্ট অ্যাটাকের ইতিহাস রয়েছে
কোলেস্টেরল বাড়লে শরীর কী সংকেত দেয়?
অনেক ক্ষেত্রেই উচ্চ কোলেস্টেরলের স্পষ্ট কোনও লক্ষণ থাকে না। তবে কিছু ক্ষেত্রে দেখা যেতে পারে— বুকে চাপ বা অস্বস্তি
হাঁটলে বা সিঁড়ি ভাঙলে বুকে ব্যথা
দ্রুত ক্লান্ত হয়ে পড়া
এই লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত পরীক্ষা জরুরি।
কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে কী করবেন?
✔ খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন
ভাজা, ফাস্ট ফুড ও অতিরিক্ত তেল এড়িয়ে চলুন
শাকসবজি, ফল, ওটস, বাদাম খান
মাছ ও অলিভ অয়েলের মতো স্বাস্থ্যকর ফ্যাট বেছে নিন
✔ নিয়মিত শরীরচর্চা
প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট হাঁটা বা হালকা ব্যায়াম কোলেস্টেরল কমাতে সাহায্য করে।
✔ ধূমপান ও অ্যালকোহল ত্যাগ
এই দুই অভ্যাস হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।
✔ নিয়মিত পরীক্ষা
বছরে অন্তত একবার লিপিড প্রোফাইল টেস্ট করানো অত্যন্ত জরুরি, বিশেষ করে ৪০ বছরের পর।
✔ চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ
কিছু ক্ষেত্রে শুধুমাত্র লাইফস্টাইল পরিবর্তন যথেষ্ট নয়। তখন চিকিৎসকের পরামর্শে ওষুধ নেওয়া প্রয়োজন।
কোলেস্টেরল বাড়া মানেই যে সঙ্গে সঙ্গে হার্ট অ্যাটাক হবে, তা নয়। কিন্তু দীর্ঘদিন অবহেলা করলে এই ঝুঁকি মারাত্মকভাবে বেড়ে যায়। তাই লক্ষণ না থাকলেও নিয়মিত পরীক্ষা, স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন ও সচেতনতা অত্যন্ত জরুরি। হার্ট অ্যাটাক প্রতিরোধের সবচেয়ে বড় অস্ত্র হলো আগাম সতর্কতা।