বাবা–মা দুজনেই যদি থ্যালাসেমিয়া (thalassemia) ট্রেইট বহন করেন, সন্তানের ঝুঁকি কতটা?
বর্তমানে অনেক দম্পতির মনে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন দেখা যায়— যদিবাবাওমাদুজনেইথ্যালাসেমিয়া(thalassemia) ট্রেইটবাক্যারিয়ারহন, তাহলে সন্তানের কী হতে পারে?
Thalassemia যেহেতু একটি বংশগত রোগ, তাই এটি বাবা–মায়ের জিনের মাধ্যমে সন্তানের মধ্যে পৌঁছে যেতে পারে। এই কারণেই পরিবার পরিকল্পনা বা বিয়ের আগে অনেক মানুষ এই বিষয়টি নিয়ে জানতে চান।
এই প্রতিবেদনে সহজভাবে বোঝানো হলো, যদি দুজন অভিভাবকই থ্যালাসেমিয়া (thalassemia)ট্রেইট বহন করেন, তাহলে সন্তানের ক্ষেত্রে কী কী সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।
থ্যালাসেমিয়া(thalassemia) ট্রেইট বা ক্যারিয়ার বলতে কী বোঝায়?
থ্যালাসেমিয়া (thalassemia)ট্রেইট বা ক্যারিয়ার বলতে এমন ব্যক্তিকে বোঝায় যার শরীরে থ্যালাসেমিয়ার জিন রয়েছে, কিন্তু সাধারণত তার শরীরে বড় কোনো গুরুতর উপসর্গ দেখা যায় না।
অনেক ক্যারিয়ার মানুষ স্বাভাবিক জীবনযাপন করেন এবং অনেক সময় তারা জানতেও পারেন না যে তারা এই জিন বহন করছেন। তবে এই জিনটি তারা তাদের সন্তানের মধ্যে পৌঁছে দিতে পারেন।
দুজন ক্যারিয়ার হলে সন্তানের সম্ভাবনা কী?
যদি বাবা ও মা দুজনেই থ্যালাসেমিয়া (thalassemia)ট্রেইট বহন করেন, তাহলে জেনেটিক হিসাব অনুযায়ী সন্তানের ক্ষেত্রে তিন ধরনের সম্ভাবনা দেখা যায়।
১. থ্যালাসেমিয়া(thalassemia) মেজর হওয়ার সম্ভাবনা– প্রায় ২৫%
এই ক্ষেত্রে শিশু থ্যালাসেমিয়া (thalassemia) মেজর নিয়ে জন্মাতে পারে। এটি রোগের গুরুতর রূপ, যেখানে শরীর স্বাভাবিকভাবে হিমোগ্লোবিন তৈরি করতে পারে না।
এই ধরনের শিশুদের প্রায়ই নিয়মিত রক্তসঞ্চালন এবং দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসার প্রয়োজন হয়।
২. ক্যারিয়ার হওয়ার সম্ভাবনা– প্রায় ৫০%
অনেক ক্ষেত্রে শিশু বাবা–মায়ের মতোই থ্যালাসেমিয়া (thalassemia)ক্যারিয়ার হতে পারে। সাধারণত এদের গুরুতর কোনো উপসর্গ থাকে না এবং তারা স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারেন।
৩. সম্পূর্ণ সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা– প্রায় ২৫%
কিছু ক্ষেত্রে শিশু থ্যালাসেমিয়ার জিন না পেয়েও জন্মাতে পারে এবং সে সম্পূর্ণ সুস্থ থাকতে পারে।
থ্যালাসেমিয়া(thalassemia) মেজর কেন গুরুতর?
থ্যালাসেমিয়া (thalassemia)মেজর একটি গুরুতর স্বাস্থ্য সমস্যা। এই অবস্থায় শিশুর শরীরে পর্যাপ্ত হিমোগ্লোবিন তৈরি হয় না, ফলে তীব্র রক্তাল্পতা দেখা দেয়।
এর ফলে দেখা যেতে পারে—
- অতিরিক্ত ক্লান্তি
- ত্বক ফ্যাকাশে হয়ে যাওয়া
- শিশুদের বৃদ্ধি ধীর হওয়া
- নিয়মিত রক্ত সঞ্চালনের প্রয়োজন
এই কারণে থ্যালাসেমিয়া (thalassemia)মেজর আক্রান্ত শিশুদের দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা এবং নিয়মিত স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণ দরকার হয়।
আগে থেকে কীভাবে জানা সম্ভব?
বর্তমানে চিকিৎসাবিজ্ঞানের উন্নতির ফলে সহজেই জানা সম্ভব কেউ থ্যালাসেমিয়া (thalassemia)ক্যারিয়ার কিনা। একটি সাধারণ রক্ত পরীক্ষা করলেই এই তথ্য পাওয়া যায়।
যদি কোনো দম্পতির দুজনেই ক্যারিয়ার হন, তাহলে চিকিৎসকেরা সাধারণত জেনেটিক কাউন্সেলিং নেওয়ার পরামর্শ দেন। এতে ভবিষ্যৎ সন্তানের ঝুঁকি সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যায়।
সচেতনতা কেন গুরুত্বপূর্ণ?
অনেক সময় মানুষ থ্যালাসেমিয়া (thalassemia)সম্পর্কে সঠিক তথ্য না জানার কারণে পরীক্ষা করান না। ফলে পরে সন্তান জন্মের পর গুরুতর সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি সমাজে বিয়ের আগে থ্যালাসেমিয়া (thalassemia)পরীক্ষা করার অভ্যাস গড়ে ওঠে, তাহলে ভবিষ্যতে থ্যালাসেমিয়া (thalassemia)মেজর আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা অনেকটাই কমানো সম্ভব।
যদি বাবা–মা দুজনেই থ্যালাসেমিয়া (thalassemia) ট্রেইট বহন করেন, তাহলে সন্তানের মধ্যে থ্যালাসেমিয়া (thalassemia)মেজর হওয়ার একটি সম্ভাবনা থাকে। তবে এর অর্থ এই নয় যে প্রতিটি সন্তানেরই গুরুতর রোগ হবে। জেনেটিক হিসাব অনুযায়ী বিভিন্ন সম্ভাবনা থাকে, যার মধ্যে কিছু ক্ষেত্রে শিশু সম্পূর্ণ সুস্থও হতে পারে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো সচেতনতা এবং সময়মতো পরীক্ষা। বিয়ের আগে থ্যালাসেমিয়া (thalassemia)স্ক্রিনিং, প্রয়োজনে জেনেটিক কাউন্সেলিং এবং চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চললে ভবিষ্যৎ পরিবার পরিকল্পনা অনেক বেশি নিরাপদভাবে করা সম্ভব।
সঠিক তথ্য জানা, স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা এবং দায়িত্বশীল সিদ্ধান্ত নেওয়া—এই তিনটি বিষয়ই আগামী প্রজন্মকে থ্যালাসেমিয়ার মতো বংশগত রোগের ঝুঁকি থেকে অনেকটাই রক্ষা করতে পারে।