নারীদের হার্ট অ্যাটাকের লক্ষণ কেন অনেক সময় ধরা পড়েনা? যা জানা ভীষণ জরুরি
হার্ট অ্যাটাক মানেই কি হঠাৎ বুকের মাঝখানে তীব্র ব্যথা, বাম হাতে যন্ত্রণা আর ঘাম? বাস্তবে নারীদের ক্ষেত্রে হার্ট অ্যাটাকের লক্ষণ অনেক সময়ই আলাদা ও অস্পষ্ট হয়, যার ফলে দেরিতে চিকিৎসা শুরু হয় এবং ঝুঁকি বেড়ে যায়।
এই কারণেই নারীদের হার্ট অ্যাটাককে অনেক সময় বলা হয় “সাইলেন্ট কিলার”।
আজকের এই প্রতিবেদনে জানব— নারীদের হার্ট অ্যাটাকের লক্ষণ কেন আলাদা, কী কী লক্ষণ দেখা যায় এবং কখন সতর্ক হওয়া জরুরি।
পুরুষ ও নারীদের হার্ট অ্যাটাকের লক্ষণে পার্থক্যকেন?
বিশেষজ্ঞদের মতে, এর পেছনে রয়েছে—
হরমোনজনিত পার্থক্য
রক্তনালির গঠনগত ভিন্নতা
ব্যথা অনুভবের ধরন
ও সামাজিক কারণে উপসর্গ উপেক্ষা করার প্রবণতা
ইস্ট্রোজেন হরমোন প্রজনন বয়সে কিছুটা সুরক্ষা দিলেও, মেনোপজের পর নারীদের হার্টের ঝুঁকি হঠাৎ বেড়ে যায়।
নারীদের হার্ট অ্যাটাকের সাধারণ লক্ষণ(যা প্রায়ই বোঝা যায় না)
নারীদের ক্ষেত্রে অনেক সময় ক্লাসিক বুকব্যথা নাও থাকতে পারে। পরিবর্তে দেখা যেতে পারে—
১. অস্বাভাবিক ক্লান্তি
অল্প কাজেই খুব ক্লান্ত লাগা
বিশ্রাম নিয়েও শক্তি না ফেরা
এই লক্ষণটি হার্ট অ্যাটাকের কয়েক দিন আগেও দেখা যেতে পারে।
২. শ্বাসকষ্ট
হাঁটতে গেলে বা শুয়ে থাকলেও শ্বাস নিতে কষ্ট
হঠাৎ দম বন্ধ ভাব
৩. বুকের অস্বস্তি (ব্যথা নাও হতে পারে)
চাপ চাপ ভাব
জ্বালা বা ভারী অনুভূতি
গ্যাসের মতো মনে হওয়া
৪. ঘাড়, চোয়াল, পিঠ বা কাঁধে ব্যথা
বিশেষ করে ডান দিকেও ব্যথা হতে পারে
ব্যথা ধীরে ধীরে বাড়ে
৫. বমি ভাব বা বদহজম
গ্যাস, অ্যাসিডিটি বা ফুড পয়জনিং ভেবে ভুল হয়
বমি বমি ভাবের সঙ্গে ঘাম
৬. মাথা ঘোরা বা হঠাৎ দুর্বল লাগা
চোখে অন্ধকার দেখা
ভারসাম্য হারানোর অনুভূতি
কেন নারীরা এসব লক্ষণকে গুরুত্ব দেননা?
অনেক ক্ষেত্রেই—
ঘরের কাজের ক্লান্তি বলে ধরে নেন
গ্যাস বা অ্যাসিডিটির সমস্যা ভাবেন
নিজের শরীরের চেয়ে পরিবারকে বেশি গুরুত্ব দেন
হার্ট অ্যাটাক “পুরুষদের রোগ”—এই ভুল ধারণা কাজ করে
এই দেরিই অনেক সময় মারাত্মক হয়ে ওঠে।
কোন নারীরা বেশি ঝুঁকিতে?
নিম্নলিখিত অবস্থায় ঝুঁকি বেড়ে যায়—
ডায়াবেটিস
উচ্চ রক্তচাপ
কোলেস্টেরল বেশি
স্থূলতা
ধূমপান বা প্যাসিভ স্মোকিং
মানসিক চাপ ও ঘুমের অভাব
পরিবারে হার্টের রোগের ইতিহাস
মেনোপজের পরবর্তী সময়
কখন দ্রুত হাসপাতালে যাবেন?
নিচের লক্ষণগুলির যেকোনোটি হলে দেরি না করে জরুরি চিকিৎসা নিন—
বুকে চাপ বা অস্বস্তি ১০ মিনিটের বেশি থাকলে
শ্বাসকষ্টের সঙ্গে ঘাম বা বমি
হঠাৎ অস্বাভাবিক দুর্বলতা
ঘাড়/চোয়াল/পিঠে ব্যথা সঙ্গে অস্বস্তি
মনে রাখবেন—হার্ট অ্যাটাকে সময়ই জীবন।
নারীদের হার্ট সুস্থ রাখতে কী করবেন?
১. নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা
ব্লাড প্রেসার
সুগার
কোলেস্টেরল
২. সক্রিয় জীবনযাপন
প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট হাঁটা
হালকা ব্যায়াম বা যোগ
৩. স্বাস্থ্যকর খাবার
কম তেল-নুন
বেশি শাকসবজি, ফল
প্রক্রিয়াজাত খাবার কম
৪. মানসিক চাপ কমান
পর্যাপ্ত ঘুম
মেডিটেশন
নিজের জন্য সময়
নারীদের হার্ট অ্যাটাকের লক্ষণ অনেক সময়ই নীরব, ভিন্ন ও বিভ্রান্তিকর হয়। তাই নিজের শরীরের অস্বাভাবিক পরিবর্তনকে অবহেলা করা যাবে না। সঠিক সময়ে লক্ষণ চিনে নিয়ে চিকিৎসা শুরু করতে পারলেই প্রাণ বাঁচানো সম্ভব।