কার্ডিওলজি কার্ডিওলজি ক্যান্সারবিজ্ঞান ক্যান্সারবিজ্ঞান গ্যাস্ট্রো গ্যাস্ট্রো ডার্মাটোলজি ডার্মাটোলজি নিউরোলজি নিউরোলজি শিশুরোগ শিশুরোগ স্ত্রীরোগ স্ত্রীরোগ হেলথ টিপস হেলথ টিপস
স্বাস্থ্য বিজ্ঞানের সাম্প্রতিক আপডেট > শীত এলেই হাঁপানির প্রকোপ বাড়ে কেন? জানুন বিশেষজ্ঞদের মতামত
শীত এলেই কেন বাড়ে হাঁপানির সমস্যা? বিশেষজ্ঞরা বলছেন আসল কারণ

শীত এলেই হাঁপানির প্রকোপ বাড়ে কেন? জানুন বিশেষজ্ঞদের মতামত

by Digi-Admin

শেয়ার করুন

ঋতু পরিবর্তনের সময়ে অনেকের পুরনো শারীরিক সমস্যা আবার মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে। বিশেষ করে যাঁরা অ্যাজমা বা হাঁপানিতে ভুগছেন, তাঁদের জন্য এই সময়টা বেশ কষ্টকর হয়ে ওঠে। অনেকেই বলেন — “শীত এলে শ্বাসকষ্ট বেড়ে যায়”, আবার কারও সমস্যা গ্রীষ্ম বা বর্ষাকালে বেশি দেখা দেয়। কিন্তু কেন এমনটা হয়? কেন ঋতুর পালাবদলে অ্যাজমার প্রকোপ বাড়ে? চলুন বিস্তারিতভাবে জেনে নেওয়া যাক।

১. বাতাসের গুণমান ও তাপমাত্রার পরিবর্তন

ঋতু পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে বাতাসের আর্দ্রতা, তাপমাত্রা এবং ধুলোর পরিমাণ পরিবর্তিত হয়।
শীতকালে বাতাস শুষ্ক হয়ে যায়, আর গরমকালে বাতাসে ধূলিকণা ও পলেনের (পরাগরেণু) পরিমাণ বেড়ে যায়।
এই দুই পরিস্থিতিতেই শ্বাসনালীতে জ্বালা ও প্রদাহ সৃষ্টি হয়, যা অ্যাজমার উপসর্গকে বাড়িয়ে তোলে।

শীতের সকালে ঠান্ডা বাতাস নাক দিয়ে ফুসফুসে পৌঁছালে ব্রংকিয়াল টিউব সংকুচিত হয় — ফলে শ্বাসকষ্ট, কাশি ও বুকে চাপ অনুভূত হয়।

২. অ্যালার্জেন ও পলেনের প্রভাব

বসন্ত ও শরৎকালে গাছপালা ফুলে ফলে ভরে যায় — আর সেই সময় বাতাসে ভেসে বেড়ায় পরাগরেণু (pollen) ও নানা অ্যালার্জেন।
যাঁরা অ্যালার্জি-প্রবণ, তাঁদের ক্ষেত্রে এই কণাগুলি শ্বাসনালীতে প্রবেশ করেই অ্যাজমার আক্রমণ ঘটাতে পারে।

এছাড়াও, ঘরের ভেতরের ধূলিকণা, ফাঙ্গাস বা ছত্রাকও ঋতু পরিবর্তনের সময় দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে — যা সমস্যা আরও বাড়ায়।

৩. ভাইরাল সংক্রমণ ও সর্দি-কাশির বৃদ্ধি

ঋতু পরিবর্তনের সময়ে ভাইরাল ইনফেকশন বা সর্দি-কাশির প্রবণতাও অনেক বেড়ে যায়।
এই ভাইরাসগুলি শ্বাসযন্ত্রে সংক্রমণ ঘটিয়ে ফুসফুসে প্রদাহ সৃষ্টি করে।
যাঁরা আগে থেকেই হাঁপানিতে ভুগছেন, তাঁদের ক্ষেত্রে এই সংক্রমণ অ্যাজমা ট্রিগার হিসেবে কাজ করে এবং শ্বাসকষ্ট তীব্র করে তোলে।

৪. ঘরের ভিতরকার বদ্ধ পরিবেশের প্রভাব

শীত পড়লে জানালা-দরজা বন্ধ থাকে, গরমকালে আবার এসি চলতে থাকে — ফলে ঘরের ভিতরকার বাতাস বারবার পুনরাবৃত্তি হয় এবং তাতে ধূলিকণা, গন্ধ বা ছত্রাক জমে যায়।
এই “ইনডোর পলিউশন” বা ঘরোয়া দূষণও অ্যাজমার অন্যতম কারণ।

৫. হঠাৎ আবহাওয়ার পরিবর্তনে দেহের প্রতিক্রিয়া

আমাদের শরীর হঠাৎ তাপমাত্রার পরিবর্তনে মানিয়ে নিতে সময় নেয়।
যেমন — রোদে থাকার পর হঠাৎ ঠান্ডা ঘরে ঢোকা, বা গরমের দিনে বরফ ঠান্ডা জল খাওয়া।
এই পরিবর্তনগুলো শ্বাসনালীকে সংবেদনশীল করে তোলে এবং অ্যাজমার সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে।

প্রতিরোধ ও যত্নের উপায়

ঋতু পরিবর্তনের সময় অ্যাজমা নিয়ন্ত্রণে রাখতে কিছু সহজ অভ্যাস মেনে চললে অনেক উপকার পাওয়া যায়:

✅ নিয়মিত ইনহেলার ব্যবহার করুন এবং ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া বন্ধ করবেন না।
✅ ঘর পরিষ্কার রাখুন, বিশেষ করে বিছানার চাদর, পর্দা ও কার্পেট ধুয়ে ফেলুন।
✅ বাইরে বেরোলে মাস্ক ব্যবহার করুন — ধুলো ও পলেন থেকে রক্ষা পাবেন।
✅ ঠান্ডা খাবার, আইসক্রিম বা অতিরিক্ত ঠান্ডা পানীয় এড়িয়ে চলুন।
✅ প্রয়োজনে বছরে একবার অ্যালার্জি টেস্ট করিয়ে নিন।

স্বাস্থ্য বিজ্ঞানের লেটেস্ট আপডেট

সম্পর্কিত পোস্ট সব দেখুন

Copyright © 2026 Digi Healthcare Wellness. All Rights Reserved.