Bell’s Palsy কীভাবে হয়? জানুন মুখের হঠাৎ প্যারালাইসিসের বৈজ্ঞানিক কারণ ও চিকিৎসা
by Digi-Admin
আপনার কি কখনও মনে হয়েছে মুখের এক পাশ হঠাৎ কাজ করা বন্ধ করে দিয়েছে? হাসতে গেলে এক পাশ না নড়ছে, চোখ বন্ধ করতে পারছেন না? এটি হতে পারে বেলস প্যালসি (Bell’s Palsy) — এক ধরনের মুখের স্নায়বিক সমস্যা, যা হঠাৎ করেই দেখা দেয় এবং মুখের এক পাশের পেশীকে দুর্বল বা প্যারালাইজ করে দেয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি সাধারণত অস্থায়ী (temporary) হলেও সময়মতো চিকিৎসা না করলে স্থায়ী সমস্যা তৈরি হতে পারে।
বেলস প্যালসি কী?
বেলস প্যালসি হলো এমন এক স্নায়বিক ব্যাধি, যেখানে সপ্তম ক্রানিয়াল নার্ভ বা ফেসিয়াল নার্ভ (facial nerve) ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এই নার্ভটি মুখের পেশীগুলো নিয়ন্ত্রণ করে — যেমন হাসা, চোখ বন্ধ করা, ঠোঁট নড়ানো ইত্যাদি।
যখন এই নার্ভে প্রদাহ (inflammation) বা ফোলা দেখা দেয়, তখন রক্ত ও অক্সিজেনের প্রবাহ বাধাপ্রাপ্ত হয়, ফলে মুখের এক পাশ শ্লথ বা ঝুলে পড়ে।
কীভাবে হয় বেলস প্যালসি?
বেলস প্যালসির সঠিক কারণ বিজ্ঞানীরা এখনও পুরোপুরি জানেন না। তবে কয়েকটি বৈজ্ঞানিক কারণের সঙ্গে এর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে —
ভাইরাল সংক্রমণ: হের্পিস সিমপ্লেক্স ভাইরাস (Herpes Simplex Virus) বা ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাসের সংক্রমণ এই নার্ভে প্রদাহ সৃষ্টি করতে পারে।
ইমিউন সিস্টেম দুর্বলতা: শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে গেলে নার্ভ আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে।
স্ট্রেস ও ঠান্ডা লাগা: ঠান্ডা হাওয়া, ঘুমের অভাব ও অতিরিক্ত মানসিক চাপ বেলস প্যালসির ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
গর্ভাবস্থা ও ডায়াবেটিস: বিশেষজ্ঞদের মতে, গর্ভবতী নারী ও ডায়াবেটিস রোগীরা এই সমস্যায় তুলনামূলক বেশি আক্রান্ত হন।
বেলস প্যালসির প্রধান লক্ষণ
বেলস প্যালসির উপসর্গ হঠাৎ করেই দেখা দেয় — সাধারণত ২৪ থেকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে। সবচেয়ে সাধারণ লক্ষণগুলো হলো:
মুখের এক পাশ ঝুলে পড়া
চোখ বন্ধ করতে না পারা
মুখের কোণ একদিকে টান পড়া
স্বাদ পরিবর্তন বা মুখ শুকিয়ে যাওয়া
কানের পেছনে হালকা ব্যথা বা টান
কানে শব্দে অতিসংবেদনশীলতা
🔹 সূত্র: HealthDirect
বেলস প্যালসির চিকিৎসা
চিকিৎসক সাধারণত কিছু পরীক্ষার মাধ্যমে নির্ণয় করেন বেলস প্যালসি নাকি অন্য কোনো স্নায়বিক সমস্যা (যেমন স্ট্রোক)।
প্রধান চিকিৎসা পদ্ধতিগুলো হলো —
স্টেরয়েড ওষুধ: প্রেডনিসন (Prednisone) সবচেয়ে কার্যকরী, যা প্রদাহ কমিয়ে দেয়।
অ্যান্টিভাইরাল ওষুধ: যদি ভাইরাসজনিত সংক্রমণ সন্দেহ হয়।
ফিজিওথেরাপি ও ব্যায়াম: মুখের পেশী পুনরুদ্ধারে সহায়ক।
চোখের যত্ন: চোখ পুরো বন্ধ না হলে আর্টিফিশিয়াল টিয়ার বা প্যাড ব্যবহার করা জরুরি।
পুনরুদ্ধার ও পরবর্তী যত্ন
অধিকাংশ রোগী কয়েক সপ্তাহ থেকে কয়েক মাসের মধ্যেই সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে যান।
তবে প্রায় ২০% রোগীর ক্ষেত্রে কিছুটা দুর্বলতা থেকে যেতে পারে। নিয়মিত ব্যায়াম, পর্যাপ্ত ঘুম ও পুষ্টিকর খাবার এই অবস্থায় দ্রুত পুনরুদ্ধারে সহায়ক।
সতর্কতা ও সচেতনতা
হঠাৎ মুখের এক পাশ ঝুলে গেলে দেরি না করে চিকিৎসকের কাছে যান।
ধূমপান ও অতিরিক্ত মানসিক চাপ এড়িয়ে চলুন।
শীতকালে ঠান্ডা হাওয়া থেকে মুখ রক্ষা করুন।
ঘন ঘন সর্দি, ইনফ্লুয়েঞ্জা, স্ট্রেস, পর্যাপ্ত ঘুম না হওয়া — এগুলো নার্ভের উপর প্রভাব ফেলতে পারে।
গর্ভবতী মহিলা ও ডায়াবেটিস রোগীদের এই রোগের ঝুঁকি একটু বেশি থাকতে পারে।
মুখের এক পাশে আঘাত লেগে থাকলে অথবা অন্যান্য স্নায়বিক লক্ষণ থাকলে অবশ্যই সময়মতো চিকিৎসকের পরামর্শ নিন — কারণ অন্যান্য কারণও থাকতে পারে।
উপসংহার
বেলস প্যালসি একটি হঠাৎ শুরু হওয়া মুখের পেশী শ্লথতা, যা সাধারণত ‘নিজে নিজে’ সেরে যেতে পারে। তবে কারণ অস্পষ্ট থাকলেও দ্রুত সনাক্ত ও চিকিৎসা করলেই ফল ভালো হয়। তাই মুখের এক পাশ হঠাৎ শ্লথ বা ঝুলে পড়লে দেরি না করে চিকিৎসকের কাছে যাওয়াই উত্তম।
বেলস প্যালসি ভয় পাওয়ার মতো নয় — এটি অনেক সময় নিজে নিজেও সেরে যায়, তবে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
মুখের হঠাৎ দুর্বলতা বা চোখ বন্ধ না হওয়া দেখা দিলে একে অবহেলা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।