যুক্তরাষ্ট্রে নতুন ধরনের এমপক্স স্ট্রেনের দ্রুত বিস্তার: কেন এটি উদ্বেগের, এবং কীভাবে সতর্ক থাকবেন
by Digi-Admin
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রে শনাক্ত হয়েছে এমপক্স (Mpox) ভাইরাসের এক নতুন ও বেশি শক্তিশালী রূপ। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই স্ট্রেনটি পূর্বে পরিচিত প্রজাতির তুলনায় দ্রুত ছড়ায় এবং জটিল স্বাস্থ্য সমস্যার ঝুঁকি বাড়ায়।
এমপক্স আসলে “মাঙ্কিপক্স” নামে পরিচিত ছিল, সেটি স্মলপক্স ভাইরাসের মতোই একটি ভাইরাসজনিত সংক্রমণ। সাধারণত জ্বর, মাথাব্যথা, শরীরে ক্ষত বা র্যাশ-এর মতো উপসর্গ দিয়ে রোগটি শুরু হয়।
এমপক্স কী? এবং নতুন স্ট্রেনটি কেন বেশি বিপজ্জনক?
এমপক্স, যা আগে “মাঙ্কিপক্স” নামে পরিচিত ছিল, একটি ভাইরাসজনিত সংক্রমণ যা স্মলপক্স ভাইরাসের ঘনিষ্ঠ আত্মীয়। এই রোগে সাধারণত জ্বর, মাথাব্যথা, পেশিতে ব্যথা, শরীরে ফুসকুড়ি বা ঘায়ের মতো দাগ দেখা যায়।
তবে এবার যুক্তরাষ্ট্রে যে স্ট্রেনটি শনাক্ত হয়েছে, সেটি হলো Clade I strain — যা আফ্রিকার কিছু অঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরে দেখা গিয়েছে এবং এটি আগের Clade II strain-এর তুলনায় বেশি প্রাণঘাতী ও জটিলতা-সৃষ্টিকারী বলে পরিচিত।
ক্যালিফোর্নিয়ার লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টিতে সম্প্রতি কয়েকটি স্থানীয় সংক্রমণ পাওয়া গেছে যেখানে আক্রান্তরা আফ্রিকা ভ্রমণ করেননি। এটি ইঙ্গিত দেয়, ভাইরাসটি স্থানীয়ভাবে ছড়াতে শুরু করেছে।
লক্ষণগুলো কী হতে পারে?
বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, এই স্ট্রেনটি আগের তুলনায় দ্রুত ছড়াতে পারে এবং শরীরে বেশি তীব্র প্রভাব ফেলতে পারে। সাধারণত দেখা যায় —
হঠাৎ জ্বর, মাথাব্যথা, গায়ে ব্যথা, শীত-লাগা বা কাঁপুনি
গলা বা মুখে ফুসকুড়ি, হাত-পা বা যৌনাঙ্গে ঘা বা দাগ
ঘায়ের জায়গা থেকে তরল নির্গমন
গুরুতর ক্ষেত্রে চোখ, ফুসফুস বা মস্তিষ্কেও প্রভাব পড়তে পারে
যদি কারও শরীরে এই উপসর্গগুলির কোনওটি দেখা যায়, বিশেষত সম্প্রতি কারও সাথে ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শে আসার পর, তবে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
কারা বেশি ঝুঁকিতে আছেন?
যদিও এমপক্স যে-কেউ আক্রান্ত হতে পারেন, তবে নিম্নলিখিত ব্যক্তিরা তুলনামূলক বেশি ঝুঁকিতে —
দুর্বল রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতাসম্পন্ন মানুষ, যেমন – এইচআইভি রোগী
গর্ভবতী নারী ও শিশু
যাঁরা ঘনিষ্ঠ বা অন্তরঙ্গ শারীরিক সম্পর্কে যুক্ত, বিশেষ করে যেখানে সংক্রমণ ইতিমধ্যেই রয়েছে
যাঁরা আক্রান্ত এলাকার বাসিন্দা বা সেই অঞ্চলে ভ্রমণ করেছেন
বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, আপাতত যুক্তরাষ্ট্রে সাধারণ মানুষের ঝুঁকি কম হলেও সতর্কতা জরুরি।
কীভাবে নিজেকে সুরক্ষিত রাখবেন?
এমপক্স প্রতিরোধের মূল উপায় হলো সচেতনতা ও ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা।
সংক্রমিত বা সন্দেহভাজন ব্যক্তির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শ এড়িয়ে চলুন।
ব্যক্তিগত সামগ্রী (তোয়ালে, পোশাক, বিছানার চাদর, প্রসাধন দ্রব্য) কারও সঙ্গে ভাগাভাগি করবেন না।
নিরাপদ যৌন অভ্যাস বজায় রাখুন — কনডম ব্যবহার করুন, তবে মনে রাখবেন এটি সম্পূর্ণ সুরক্ষা দেয় না।
হাত ভালোভাবে ধুয়ে নিন এবং সংক্রমিত বস্তু স্পর্শ করার পর মুখে হাত দেবেন না।
টিকা গ্রহণ করুন — যুক্তরাষ্ট্রে JYNNEOS নামের দুই ডোজের টিকা উচ্চঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তিদের জন্য দেওয়া হচ্ছে।
প্রাথমিক লক্ষণ দেখলেই চিকিৎসকের কাছে যান — দ্রুত শনাক্তকরণই রোগ নিয়ন্ত্রণের চাবিকাঠি।
আক্রান্তদের প্রতি সহানুভূতিশীল হন — এই রোগ কোনও বিশেষ সম্প্রদায়ের নয়; সচেতনতা ও সহমর্মিতাই সংক্রমণ রোধে সাহায্য করে।
শেষ কথা
বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে শনাক্ত এই নতুন Clade I strain অবশ্যই উদ্বেগের কারণ, তবে আতঙ্ক নয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, সতর্কতা, টিকাকরণ, ও স্বাস্থ্যবিধি মানলেই সংক্রমণের ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব। ভাইরাস পরিবর্তনশীল, তাই আমাদেরও সতর্কতার অভ্যাস পরিবর্তন করতে হবে। নিজের ও সমাজের সুরক্ষার জন্য সচেতন থাকুন, প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিন, এবং সঠিক তথ্য জানুন।