কার্ডিওলজি
ক্যান্সারবিজ্ঞান
গ্যাস্ট্রো
ডার্মাটোলজি
নিউরোলজি
শারদ স্বীকৃতি
শিশুরোগ
স্ত্রীরোগ
হেমাটোলজি
হেলথ টিপস
Nocturnal Seizure: ঘুমের মধ্যেই খিঁচুনি? জানুন এর সম্ভাব্য কারণ
রাতের গভীর ঘুমে হঠাৎ শরীর কাঁপতে শুরু করা, দাঁত চেপে ধরা, অচেতন হয়ে যাওয়া বা সকালে উঠে শরীর ব্যথা লাগা—এই অভিজ্ঞতা খুবই ভয়ঙ্কর। অনেক সময় রোগী নিজে বুঝতেই পারেন না, পরিবারের লোকজন বা পাশের কেউ প্রথম বিষয়টি লক্ষ্য করেন। তাহলে প্রশ্ন উঠছে—রাতের বেলা খিঁচুনি (Nocturnal Seizure) কেন হয়? এর পেছনে কি শুধু মৃগী রোগই দায়ী, নাকি অন্য কারণও থাকতে পারে?
চলুন সহজভাবে বিষয়টি বুঝে নেওয়া যাক।
খিঁচুনি (Nocturnal Seizure) আসলে কী?
খিঁচুনি বা সিজার হয় যখন মস্তিষ্কের স্নায়ুকোষগুলি হঠাৎ অস্বাভাবিকভাবে বৈদ্যুতিক সংকেত পাঠাতে শুরু করে। এর ফলে শরীরের পেশি শক্ত হয়ে যাওয়া, কাঁপুনি, অজ্ঞান হয়ে যাওয়া বা আচরণে হঠাৎ পরিবর্তন দেখা দিতে পারে।
সব খিঁচুনি মৃগী (Epilepsy) নয়, আবার সব মৃগীর ক্ষেত্রেও দিনে খিঁচুনি হবে—এমন নয়। অনেকের ক্ষেত্রে খিঁচুনি শুধুমাত্র রাতের বেলাতেই হয়।
রাতে খিঁচুনি (Nocturnal Seizure) হওয়ার সাধারণ কারণগুলো
১. নকটার্নাল এপিলেপসি (Nocturnal Epilepsy)
কিছু ধরনের মৃগীতে খিঁচুনি প্রধানত ঘুমের সময়ই হয়। বিশেষ করে গভীর ঘুম (Non-REM sleep) চলাকালীন মস্তিষ্কের কার্যকলাপে পরিবর্তনের কারণে এই সমস্যা দেখা দিতে পারে।
২. ঘুমের অভাব
নিয়মিত কম ঘুম হলে বা রাত জাগার অভ্যাস থাকলে খিঁচুনির ঝুঁকি অনেকটাই বেড়ে যায়। ঘুমের অভাব মস্তিষ্ককে বেশি সংবেদনশীল করে তোলে।
৩. অতিরিক্ত মানসিক চাপ ও স্ট্রেস
দীর্ঘদিনের স্ট্রেস বা দুশ্চিন্তা রাতে খিঁচুনি ট্রিগার করতে পারে। দিনের মানসিক চাপ অনেক সময় রাতে ঘুমের মধ্যেই প্রভাব ফেলে।
৪. রক্তে শর্করার মাত্রা কমে যাওয়া
ডায়াবেটিস রোগীদের ক্ষেত্রে রাতে সুগার হঠাৎ কমে গেলে (Nocturnal Hypoglycemia) খিঁচুনি হতে পারে।
৫. জ্বর ও সংক্রমণ
বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে রাতে জ্বর বাড়লে খিঁচুনি দেখা দিতে পারে। বড়দের ক্ষেত্রেও কিছু সংক্রমণ মস্তিষ্ককে প্রভাবিত করলে এই সমস্যা হতে পারে।
৬. অ্যালকোহল ও কিছু ওষুধ
অতিরিক্ত মদ্যপান, হঠাৎ মদ ছেড়ে দেওয়া, বা কিছু নির্দিষ্ট ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় রাতে খিঁচুনি হতে পারে।
রাতে খিঁচুনি (Nocturnal Seizure) হলে কী লক্ষণ দেখা যায়?
- ঘুমের মধ্যে শরীর শক্ত হয়ে যাওয়া
- হাত-পা কাঁপা
- দাঁত চেপে ধরা বা মুখ দিয়ে ফেনা বেরোনো
- অজ্ঞান হয়ে যাওয়া
- সকালে উঠে মাথাব্যথা বা শরীর ব্যথা
অনেক সময় রোগী কিছুই মনে রাখতে পারেন না, শুধু সকালে অস্বাভাবিক ক্লান্তি অনুভব করেন।
কখন অবশ্যই ডাক্তারের কাছে যাবেন?
রাতে খিঁচুনি—
- প্রথমবার হলে
- বারবার হতে থাকলে
- ৫ মিনিটের বেশি স্থায়ী হলে
- খিঁচুনির পর জ্ঞান না ফিরলে
- মাথায় আঘাত লাগলে
তাহলে দেরি না করে নিউরোলজিস্টের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
কী কী পরীক্ষা দরকার হতে পারে?
ডাক্তার প্রয়োজনে—
- EEG
- MRI বা CT Scan
- রক্ত পরীক্ষা
- স্লিপ স্টাডি
এই পরীক্ষাগুলি করতে বলতে পারেন, যাতে আসল কারণ নির্ণয় করা যায়।
রাতের বেলা খিঁচুনি (Nocturnal Seizure) হওয়া মানেই আতঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন নেই, কিন্তু একে অবহেলা করাও ঠিক নয়। সঠিক কারণ চিহ্নিত করে সময়মতো চিকিৎসা শুরু করলে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এই সমস্যা নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। নিয়মিত ঘুম, স্ট্রেস কমানো এবং ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলাই সুস্থ থাকার চাবিকাঠি।