কার্ডিওলজি
ক্যান্সারবিজ্ঞান
গ্যাস্ট্রো
ডার্মাটোলজি
নিউরোলজি
শারদ স্বীকৃতি
শিশুরোগ
স্ত্রীরোগ
হেলথ টিপস
শীত এলেই কেন বাড়ে সর্দি-কাশি, ভাইরাল জ্বর, নিউমোনিয়া ও ব্রঙ্কাইটিস ? জানুন কারণ ও সতর্কতা
শীতকাল শুরু হলেই বহু মানুষ সর্দি-কাশি, জ্বর বা শ্বাসকষ্টের সমস্যায় ভুগতে শুরু করেন। বিশেষকরে Common Cold, Viral Fever, Pneumonia এবং Bronchitis—এই রোগগুলির প্রকোপশীতের সময় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়। কিন্তু কেন শীতকালেই এই অসুখগুলো বেশি দেখা যায়? এর পেছনে রয়েছে একাধিক বৈজ্ঞানিক ও পরিবেশগত কারণ।
ঠান্ডা আবহাওয়ায় রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়
শীতকালে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বা ইমিউনিটি কিছুটা দুর্বল হয়ে পড়ে। ঠান্ডা আবহাওয়ায়শরীর নিজেকে গরম রাখতে বেশি শক্তি ব্যয় করে, ফলে সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াই করার ক্ষমতা কমেযায়। এর সুযোগ নিয়েই ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়া সহজে শরীরে আক্রমণ করে।বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক মানুষ এবং যাদের আগে থেকেই শ্বাসকষ্ট বা হৃদরোগ রয়েছে, তারা শীতকালেবেশি ঝুঁকির মধ্যে থাকেন।
ভাইরাস ঠান্ডায় বেশি সক্রিয় থাকে
গবেষণায় দেখা গেছে, সর্দি-কাশি ও ভাইরাল জ্বরের জন্য দায়ী ভাইরাসগুলো ঠান্ডা ও শুষ্ক পরিবেশেবেশি সময় সক্রিয় থাকে। শীতকালে বাতাসে আর্দ্রতা কম থাকায় ভাইরাস সহজে বাতাসে ভেসেবেড়াতে পারে এবং একজন থেকে আরেকজনের শরীরে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।
এই কারণেই শীতকালে স্কুল, অফিস বা জনবহুল জায়গায় ভাইরাল সংক্রমণ খুব দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।
ঘরের ভিতরে বেশি সময় কাটানো সংক্রমণ বাড়ায়
শীতের সময় মানুষ ঠান্ডা এড়াতে দরজা-জানালা বন্ধ করে ঘরের ভিতর বেশি সময় কাটান। ফলেবাতাস চলাচল কম হয় এবং একই জায়গায় অনেক মানুষ থাকলে জীবাণু ছড়ানোর ঝুঁকি বেড়েযায়।
এর ফলে সাধারণ সর্দি-
কাশি থেকে শুরু করে নিউমোনিয়া বা ব্রঙ্কাইটিসের মতো গুরুতর শ্বাসযন্ত্রেরসংক্রমণ দেখা দিতে পারে। ঠান্ডা বাতাস শ্বাসনালিতে প্রভাব ফেলে
ঠান্ডা ও শুষ্ক বাতাস সরাসরি শ্বাসনালিতে ঢুকলে শ্বাসনালির ভেতরের আবরণে জ্বালা সৃষ্টি হয়। এরফলে কাশি বাড়ে এবং শ্বাসনালি সংক্রমণের জন্য আরও সংবেদনশীল হয়ে ওঠে। যাদের হাঁপানি বাক্রনিক ব্রঙ্কাইটিস রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে এই সমস্যা আরও গুরুতর আকার নিতে পারে।
নিউমোনিয়া ও ব্রঙ্কাইটিস কেন বেশি হয়?
শীতকালে সাধারণ সর্দি-কাশি বা ভাইরাল সংক্রমণ ঠিকমতো চিকিৎসা না হলে তা থেকে নিউমোনিয়াবা ব্রঙ্কাইটিস হতে পারে। ঠান্ডা আবহাওয়ায় ফুসফুসের কার্যক্ষমতা কিছুটা কমে যায়, ফলে সংক্রমণগভীরে পৌঁছে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শীতকালে বায়ুদূষণও বাড়ে, যা ফুসফুসের স্বাস্থ্যের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলেএবং নিউমোনিয়ার ঝুঁকি বাড়ায়।
শীতকালে জল কম পান করাও একটি কারণ
শীতে তৃষ্ণা কম লাগে বলে অনেকেই প্রয়োজনের তুলনায় কম জল পান করেন। এতে শরীরডিহাইড্রেটেড হয়ে পড়ে এবং শ্বাসনালির ভেতরের সুরক্ষামূলক স্তর শুষ্ক হয়ে যায়। এই অবস্থায়ভাইরাস সহজেই আক্রমণ করতে পারে।
কীভাবে এই রোগগুলি থেকে নিজেকে রক্ষা করবেন?
শীতকালে কিছু সাধারণ সতর্কতা মেনে চললে সর্দি-কাশি ও ভাইরাল সংক্রমণের ঝুঁকি অনেকটাই কমানো যায়—
- • শরীর গরম রাখতে উষ্ণ পোশাক পরুন
- • ভিড় এড়িয়ে চলুন এবং প্রয়োজনে মাস্ক ব্যবহার করুন
- • নিয়মিত হাত ধোয়ার অভ্যাস রাখুন
- • পর্যাপ্ত জল ও পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ করুন
- • সর্দি-কাশি দীর্ঘদিন থাকলে অবহেলা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন
সম্পর্কিত পোস্ট সব দেখুন
লেটেস্ট পোস্ট
Notifications
-
Influenza: ইনফ্লুয়েঞ্জা ছড়ায় কীভাবে? জানুন, সতর্ক থাকুনAug 27, 13:44 NEW