অদৃশ্য হুমকি – মাইক্রোপ্লাস্টিক কি হাড়ের শক্তি কমাচ্ছে?
by Digi-Admin
আমাদের দৈনন্দিন খাবার, জল এমনকি বাতাসের সঙ্গেও অদৃশ্যভাবে শরীরে প্রবেশ করছে মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা। সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, এই কণাগুলো শুধু রক্ত বা অঙ্গে সীমাবদ্ধ নয়, বরং হাড়, তরুণাস্থি ও বোনম্যারোতেও জমা হতে পারে। দীর্ঘমেয়াদে এগুলো প্রদাহ সৃষ্টি করে, হাড় ক্ষয় ত্বরান্বিত করে এবং হাড়ের ঘনত্ব কমিয়ে দিতে পারে। ফলে হাড় দুর্বল হয়ে ভাঙার ঝুঁকি বাড়ে।
মাইক্রোপ্লাস্টিক ও হাড়ের স্বাস্থ্য –
মাইক্রোপ্লাস্টিক কী?
মাইক্রোপ্লাস্টিক হলো ১ মাইক্রোমিটার থেকে প্রায় ৫ মিলিমিটার আকারের প্লাস্টিক কণা। ন্যানোপ্লাস্টিক হলো আরও ছোট ১ মাইক্রোমিটারেরও কম প্লাস্টিক কণা। এগুলো খাবার, জল, বাতাসের মাধ্যমে আমাদের শরীরে প্রবেশ করে এবং রক্তের সঙ্গে বিভিন্ন অঙ্গে জমা হতে পারে।
গবেষণায় কী বলছে?
মানবদেহে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি দেখা যাচ্ছে। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় মানুষের হাড়, তরুণাস্থি (cartilage) ও ইন্টারভার্টিব্রাল ডিস্কে মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা পাওয়া গেছে। এই কণাগুলো মূলত রক্তের মাধ্যমে বিভিন্ন টিস্যুতে পৌঁছায়।
প্রদাহ ও বায়োমার্কার পরিবর্তন –
যেসব হাড়ের টিস্যুতে মাইক্রোপ্লাস্টিক বেশি পাওয়া গেছে, সেখানে প্রদাহজনিত উপাদান (যেমন TNF-α) এবং হাড় গঠনের সঙ্গে সম্পর্কিত মার্কার (PINP, TRACP-5b) বেশি দেখা গেছে।
প্রাণী পরীক্ষার ফলাফল –
দীর্ঘদিন ধরে মাইক্রোপ্লাস্টিক খাওয়ানো ইঁদুরের হাড়ে ঘনত্ব কমে গেছে, ট্রাবেকুলার বোন ভেঙে গেছে এবং হাড় দুর্বল হয়েছে।
অস্টিওব্লাস্ট (হাড় তৈরির কোষ) কম সক্রিয় হয়েছে এবং অস্টিওক্লাস্ট (হাড় ক্ষয়কারী কোষ) বেশি সক্রিয় হয়েছে।
কোষীয় স্তরে প্রভাব
ল্যাব পরীক্ষায় দেখা গেছে, হাড়ের কোষে মাইক্রোপ্লাস্টিক প্রবেশ করলে অক্সিডেটিভ স্ট্রেস, ডিএনএ ক্ষতি এবং কোষের বার্ধক্য (senescence) ঘটে। এর ফলে নতুন হাড় তৈরির ক্ষমতা কমে যায়।
কীভাবে হাড় ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে?
অক্সিডেটিভ স্ট্রেস: শরীরে ক্ষতিকর রিঅ্যাকটিভ অক্সিজেন স্পেসিস (ROS) তৈরি হয়।
প্রদাহ বৃদ্ধি: প্রদাহজনিত উপাদান হাড় ক্ষয় প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করে।
স্টেম সেল বার্ধক্য: বোন মেরুর স্টেম সেলগুলোর পুনরুৎপাদন ক্ষমতা কমে যায়।
হাড় তৈরির ও ক্ষয়ের ভারসাম্য নষ্ট হওয়া।
এখনও যেগুলো অনিশ্চিত –
মানুষের ক্ষেত্রে সঠিক মাত্রায় কতটা ক্ষতি হয়, সেটা স্পষ্ট নয়।
বেশিরভাগ গবেষণা এখনও প্রাণী বা ল্যাব-পরীক্ষা নির্ভর।
কারও শরীর থেকে মাইক্রোপ্লাস্টিক কতটা বেরিয়ে যায়, বা কতটা জমে থাকে, তা ব্যক্তি ভেদে ভিন্ন।
কোন ধরণের প্লাস্টিক কতটা ক্ষতিকর, সেটা নিয়েও গবেষণা চলছে।
সারসংক্ষেপ
বর্তমান গবেষণা থেকে স্পষ্ট হচ্ছে যে মাইক্রোপ্লাস্টিক হাড়ের উপর দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে, এবং প্রদাহ, অক্সিডেটিভ স্ট্রেস এবং হাড় তৈরির ভারসাম্য নষ্ট হওয়া এর মূল কারণ। তবে মানুষের ক্ষেত্রে এর প্রকৃত ঝুঁকি কতটা গুরুতর, তা জানতে আরও বড় ও দীর্ঘমেয়াদি গবেষণা দরকার।
Source – Pubmed