এমপক্স কি এখনও হুমকি? – জানুন, সচেতন থাকুন, সুরক্ষিত থাকুন।
by Digi-Admin
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিশ্বজুড়ে যেসব সংক্রামক রোগ আতঙ্ক ছড়িয়েছে, তার মধ্যে এমপক্স (Mpox) অন্যতম। আগে একে মাঙ্কিপক্স নামে চেনা হতো। ২০২২ সাল থেকে হঠাৎ করেই আফ্রিকার বাইরে ইউরোপ, আমেরিকা এবং এশিয়ার বিভিন্ন দেশে এর বিস্তার শুরু হয়। সেই অস্বাভাবিক ছড়িয়ে পড়ার কারণেই ২০২৪ সালের আগস্ট মাসে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) এমপক্সকে “Public Health Emergency of International Concern (PHEIC)” বা বৈশ্বিক স্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা ঘোষণা করে।
এমপক্স কী?
এমপক্স হলো একটি ভাইরাসজনিত রোগ, যা Orthopoxvirus গোত্রভুক্ত। এর উপসর্গ অনেকটা গুটিবসন্তের মতো হলেও তুলনামূলক কম গুরুতর।
প্রধান উপসর্গগুলো হলো—
জ্বর, মাথাব্যথা, শরীর ব্যথা
লসিকা গ্রন্থি বা গ্ল্যান্ড ফুলে যাওয়া (যা গুটিবসন্ত থেকে আলাদা)
ত্বকে ফুসকুড়ি ও ফোস্কা, যা পরবর্তীতে শুকিয়ে যায়
এমপক্স ছড়ায় মূলত—
সংক্রমিত ব্যক্তির ত্বক বা র্যাশের সরাসরি সংস্পর্শে
দীর্ঘ সময় ধরে মুখোমুখি কথোপকথন বা শ্বাসকণার মাধ্যমে
সংক্রমিত কাপড়, বিছানা বা অন্যান্য জিনিস ব্যবহার করলে
কেন WHO এটিকে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করল?
১. নতুন স্ট্রেনের আবির্ভাব
আফ্রিকার কঙ্গো গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্রে (DRC) একটি নতুন ধরন বা Clade 1b শনাক্ত হয়, যা আগের তুলনায় দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে।
২. দেশসীমা পেরিয়ে ছড়িয়ে পড়া
বুরুন্ডি, কেনিয়া, রুয়ান্ডা, উগান্ডার মতো প্রতিবেশী দেশে প্রথমবারের মতো এমপক্স শনাক্ত হয়। এর ফলে আফ্রিকার ভেতর এবং বাইরেও বড় আকারে বিস্তার ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়।
৩. সংক্রমণ ও মৃত্যুর সংখ্যা বৃদ্ধি
২০২৪ সালে একাধিক দেশে আগের বছরের তুলনায় বেশি আক্রান্ত ও মৃত্যুর ঘটনা রিপোর্ট হয়। বিশেষ করে শিশু, গর্ভবতী নারী এবং এইচআইভি রোগীদের মতো ঝুঁকিপূর্ণ গোষ্ঠীতে এর প্রভাব ছিল তীব্র।
৪. আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের প্রয়োজন
সংক্রমণ সীমিত রাখতে WHO জোর দেয় বৈশ্বিক পর্যায়ে একযোগে ব্যবস্থা গ্রহণে— যেমন সঠিক পরীক্ষা, ভ্যাকসিন, ওষুধ, সচেতনতা এবং নজরদারি ব্যবস্থা জোরদার করা।
বর্তমান অবস্থা (সেপ্টেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত)
WHO ঘোষণা করেছে যে আফ্রিকায় এমপক্স আর বৈশ্বিক স্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা নয়, কারণ নতুন সংক্রমণের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে।
তবে, বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন— রোগটি এখনও জনস্বাস্থ্যের জন্য উদ্বেগজনক, এবং এর ওপর নজরদারি ও প্রস্তুতি অব্যাহত রাখতে হবে।
এমপক্স আমাদের আবারও মনে করিয়ে দিল যে নতুন ভাইরাস হঠাৎ করে বৈশ্বিক স্বাস্থ্য সংকটে পরিণত হতে পারে। WHO-র জরুরি অবস্থা ঘোষণা কেবল সতর্কবার্তা নয়, বরং বিশ্বব্যাপী একসাথে কাজ করার আহ্বান। এখন যদিও পরিস্থিতি অনেকটা নিয়ন্ত্রণে এসেছে, কিন্তু আত্মতুষ্টি নয়, বরং সচেতনতা ও প্রস্তুতিই পারে ভবিষ্যতে এই রোগের ঝুঁকি কমিয়ে আনতে।
Source – The Telegraph