তলপেটে হঠাৎ তীব্র ব্যথার (Lower abdominal pain) কারণ কী? কখন সতর্ক হবেন?
তলপেটে হঠাৎ তীব্র ব্যথা অনেকের কাছেই আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এই ব্যথা কখনও হালকা ও সাময়িক হতে পারে, আবার কখনও গুরুতর রোগের ইঙ্গিতও দিতে পারে। পুরুষ ও মহিলা উভয়ের ক্ষেত্রেই তলপেটের ব্যথার (Lower abdominal pain) কারণ ভিন্ন হতে পারে। তাই ব্যথার প্রকৃতি, সময়কাল এবং অন্যান্য উপসর্গ বুঝে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া জরুরি।
এই লেখায় আমরা আলোচনা করব তলপেটে হঠাৎ তীব্র ব্যথার (Lower abdominal pain) কারণ এবং কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।
১. গ্যাস ও বদহজম
তলপেটের ব্যথার (Lower abdominal pain) সবচেয়ে সাধারণ কারণ হলো গ্যাস বা হজমের সমস্যা। অতিরিক্ত তেল-ঝাল খাবার, অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাস বা দীর্ঘক্ষণ খালি পেটে থাকলে গ্যাস জমে তীব্র ব্যথা হতে পারে। এর সঙ্গে পেট ফাঁপা, ঢেকুর বা অস্বস্তি থাকতে পারে। সাধারণত কিছু সময় পর বা ওষুধে এই ব্যথা কমে যায়।
২. অ্যাপেন্ডিসাইটিস
ডানদিকের তলপেটে হঠাৎ তীব্র ব্যথা হলে অ্যাপেন্ডিসাইটিসের সম্ভাবনা থাকে। প্রথমে নাভির চারপাশে ব্যথা শুরু হয়ে পরে ডান তলপেটে স্থায়ী হয়। এর সঙ্গে জ্বর, বমি বমি ভাব বা ক্ষুধামন্দা থাকতে পারে। এটি জরুরি চিকিৎসার বিষয়, কারণ দেরি হলে অ্যাপেন্ডিক্স ফেটে যেতে পারে।
৩. কিডনির পাথর
কিডনিতে পাথর থাকলে তলপেট বা পাশের দিকে তীব্র ব্যথা অনুভূত হতে পারে। এই ব্যথা হঠাৎ শুরু হয় এবং ঢেউয়ের মতো বাড়তে-কমতে পারে। প্রস্রাবে জ্বালাপোড়া, রক্ত বা ঘন ঘন প্রস্রাবের অনুভূতি থাকতে পারে। কিডনির পাথর হলে দ্রুত পরীক্ষা ও চিকিৎসা জরুরি।
৪. মূত্রনালির সংক্রমণ(UTI)
বিশেষত মহিলাদের মধ্যে মূত্রনালির সংক্রমণ একটি সাধারণ সমস্যা। তলপেটে ব্যথার (Lower abdominal pain) সঙ্গে প্রস্রাবের সময় জ্বালাপোড়া, ঘন ঘন প্রস্রাবের প্রয়োজন এবং হালকা জ্বর থাকতে পারে। সময়মতো অ্যান্টিবায়োটিক চিকিৎসা না নিলে সংক্রমণ কিডনিতে ছড়াতে পারে।
৫. মাসিকজনিত ব্যথা
মহিলাদের ক্ষেত্রে মাসিকের আগে বা সময়ে তলপেটে তীব্র ব্যথা (Lower abdominal pain) হওয়া খুবই সাধারণ। এটি সাধারণত ক্র্যাম্পের মতো হয় এবং কয়েক ঘণ্টা বা দিন স্থায়ী হতে পারে। তবে ব্যথা যদি অস্বাভাবিকভাবে বেশি হয় বা প্রতিবারই তীব্র হয়, তাহলে এন্ডোমেট্রিওসিস বা অন্য কোনও গাইনোকোলজিক্যাল সমস্যার সম্ভাবনা থাকতে পারে।
৬. ওভারিয়ান সিস্টবাটরশন
মহিলাদের ডিম্বাশয়ে সিস্ট থাকলে তলপেটে হঠাৎ তীব্র ব্যথা (Lower abdominal pain) হতে পারে। কখনও সিস্ট ফেটে গেলে বা ঘুরে গেলে (ovarian torsion) তীব্র ও অসহ্য ব্যথা হয়। এটি জরুরি চিকিৎসার বিষয় এবং দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যাওয়া প্রয়োজন।
৭. অন্ত্রের সমস্যা
কোষ্ঠকাঠিন্য, অন্ত্রের প্রদাহ (colitis) বা ইরিটেবল বাওয়েল সিনড্রোম (IBS) থাকলেও তলপেটে ব্যথা হতে পারে। এর সঙ্গে ডায়রিয়া, কোষ্ঠকাঠিন্য বা পেট মোচড়ানোর অনুভূতি থাকতে পারে।
৮. হার্নিয়া
তলপেটের কোনও অংশে ফুলে ওঠা বা চাপ দিলে ব্যথা হলে হার্নিয়ার সম্ভাবনা থাকতে পারে। দীর্ঘদিন অবহেলা করলে এটি জটিল হয়ে উঠতে পারে।
কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন?
তলপেটের ব্যথার সঙ্গে যদি নিম্নলিখিত উপসর্গ দেখা যায়, তাহলে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন—
- তীব্র ও অসহনীয় ব্যথা
- জ্বর বা কাঁপুনি
- বমি বা বমি বমি ভাব
- প্রস্রাবে রক্ত
- অস্বাভাবিক রক্তপাত
- কয়েক ঘণ্টার বেশি স্থায়ী ব্যথা
তলপেটে হঠাৎ তীব্র ব্যথার (Lower abdominal pain) কারণ সবসময় একই নয়। কখনও এটি সাধারণ গ্যাসের সমস্যা, আবার কখনও গুরুতর রোগের লক্ষণ হতে পারে। তাই ব্যথাকে অবহেলা না করে তার প্রকৃতি বুঝে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। প্রাথমিক পর্যায়ে সঠিক পরীক্ষা ও চিকিৎসা নিলে জটিলতা এড়ানো সম্ভব। নিজের শরীরের সংকেতকে গুরুত্ব দিন এবং প্রয়োজনে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। সুস্থ থাকাই জীবনের সবচেয়ে বড় সম্পদ।